"দূর_আকাশে – পর্ব ৫ (দ্বিতীয় অংশ)":


 


দূর_আকাশে – পর্ব ৫ (দ্বিতীয় অংশ)
✍️ Sumi Akhtar

মায়ার মুখটা একদম থ হয়ে গেছে। সে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না, এই লোকটা মজা করছে, নাকি সত্যিই পাগল!
সে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ায়। চোখ বড় বড় করে বলে,
"দুই পা উপরে তুলে দাঁড়িয়ে থাকবো? এটা আবার কেমন শাস্তি?"

আরিফ ঠোঁটে বাঁকা হাসি নিয়ে বলে,
"শাস্তি তো শাস্তিই। যা বলেছি তাই কর। এখনি।"

মায়া রেগে গিয়ে বলে,
"না করলে কি হবে?"

"তাহলে আমি নিজের মত করে শাস্তি দিবো। তখন কিন্তু চিৎকার করলেও কেউ শুনবে না। পুরো বাসা সাউন্ডপ্রুফ, ভুলে যাস না।"

এই কথা শুনে মায়ার চোখে ভয় ভেসে ওঠে। কিন্তু সে নিজেকে শক্ত করে ফেলে। বুক ঠুকে বলে,
"করেন যা খুশি! আমি কোনো অন্যায় করিনি। আপনি ভয় দেখিয়ে কিছুই আদায় করতে পারবেন না।"

আরিফ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে। তারপর হঠাৎই হাসতে শুরু করে।

"তুই বদলে গেছিস মায়া। পুরনো মায়া তো এমন ছিল না।"

"মানুষ সময়ের সঙ্গে বদলায়। আর আপনি কি আগের মতোই আছেন?"

আরিফ থেমে যায়। কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পায় না। এক মুহূর্তের নীরবতার পর ধীরে ধীরে বলে,
"ঠিক আছে। আজকের মত ছাড়ছি তোকে। কিন্তু মনে রাখিস, তুই এই বাসা থেকে বেরোতে পারবি না। আর বাইরে কোথাও যাওয়া? সেটা তো দুঃস্বপ্ন!"

মায়া নির্লিপ্ত মুখে বলে,
"আমি এখান থেকে বের হবোই। আপনার এই বন্ধ ঘর আমাকে বন্দি করতে পারবে না।"

আরিফ আবার হেসে উঠে বলে,
"তুই এত আত্মবিশ্বাস কই থেকে পেলি মায়া?"

"যেখানেই থাকুক, ভয় নামের জিনিসটা তো মরে গেছে আমার ভিতরে।"

আরিফের চোখে ভিন্ন একটা অনুভূতি ভেসে ওঠে। সে কিছু বলতে গিয়ে থেমে যায়।
ঠিক তখনই আরিফের ফোনটা বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘ড্যানি’ নামটা।

আরিফ ফোনটা কানে নিয়েই বলে,
"হ্যাঁ ড্যানি, বল... কী খুঁজে পেয়েছিস?"

ওপাশ থেকে কিছুক্ষণ কথা শোনার পর আরিফের মুখের রঙ পাল্টে যায়। সে শুধু বলে,
"ঠিক আছে। ওকে নিয়ে এখনই কন্ট্রোল রুমে চলে আয়। আমি আসছি।"

মায়া কৌতূহলভরে তাকায়,
"কন্ট্রোল রুমে! কোথায় ওটা?"

আরিফ এবার আর কিছু না বলে, ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

মায়া তাড়াতাড়ি দরজার দিকে এগোয়, কিন্তু দরজা তালাবদ্ধ।
সে চারপাশে তাকায়। দেয়ালের একটি কোণায় খুব সূক্ষ্ম একটা সিসিটিভি ক্যামেরা ঘোরাফেরা করছে।

মায়া মনে মনে ভাবে,
"এই লোকটা যে আমাকে সন্দেহ করছে, সেটা পরিষ্কার। এখন থেকে আরো সাবধানে চলতে হবে। কিন্তু যেভাবেই হোক, আমাকে কন্ট্রোল রুমটা খুঁজে বের করতেই হবে। কারণ ওই রুমেই লুকানো আছে আমার মুক্তির চাবিকাঠি!"

চলবে...



Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org