১৮+ গল্প দ্বিতীয় পর্ব লেখা: Sumi Akhtar


 

১৮+ গল্প
দ্বিতীয় পর্ব
লেখা: Sumi Akhtar

দুই,
ঘুম ভাঙা সেই চোখের চাহনিটা এখনও মনে গেঁথে আছে। ঝর্নার চোখে ছিল রাগ, অভিমান, আবার কোথাও একটা অস্পষ্ট কষ্ট।
আমি যতই চেষ্টা করি, ওর মনটা পড়তে পারিনা।

সে রাতে ফ্রেশ হয়ে বারান্দা থেকে ফিরে দেখি, ঝর্না এক দিক ফিরে নিরবভাবে শুয়ে আছে।
আমি ধীরে ধীরে ওর পাশে গিয়ে শুয়ে পড়ি। কোমরে হাত রাখতেই কেঁপে ওঠে সে।
কিন্তু এবার আর সরায় না।
আমি হালকা গলায় বললাম,
— ঝর্না... খুব কষ্ট দিচ্ছি তোমায়?

সে কিছু বলে না, নিঃশব্দে পড়ে থাকে।
আমি আবার বলি,
— জানি, আমাকে বিশ্বাস করতে পারছো না এখনো। কিন্তু বিশ্বাস করতে শিখে গেলে, আমিও হয়তো তোমার জন্য অন্যরকম কিছু হয়ে উঠতে পারি।

ঝর্না এবার ধীরে ধীরে ফিরে তাকায় আমার দিকে। চোখ ভরা জল, কিন্তু ঠোঁটে চাপা এক ব্যথার হাসি।
— ভালোবাসা আর সন্দেহ একসাথে টিকে থাকে না, জানো?

আমি মাথা নেড়ে বলি,
— জানি। তাই তো চাই, তুমিই আমাকে শেখাও ভালোবাসতে।

ঝর্নার চোখে যেন ঝলক খেলে যায়। সে আবারও চুপ করে থাকে।
আমি বুঝি, ওর ভেতরে একটা যুদ্ধ চলছে—নিজের সঙ্গে, আমার সঙ্গে, অথবা অতীতের কোনো ছায়ার সঙ্গে।

— আমি কি তোমার পছন্দ না? – আমি সরাসরি প্রশ্ন করি।

সে এবার ধীরে ধীরে বলে,
— তুমি পছন্দ হওয়ার আগে, বিশ্বাসযোগ্য হও...
— আমি কী করলে তুমি বিশ্বাস করবে?
— আমি চাই না তুমি কিছু করো। আমি শুধু দেখতে চাই তুমি কী করো যখন কেউ কিছু চায় না।

এই কথার মানে তখন বুঝিনি, তবে খুব গভীর ছিল তা।

রাত গড়িয়ে যায়।
আমি শুধু ঝর্নার পাশেই শুয়ে থাকি। ওকে আর স্পর্শ করি না, কথা বলি না। শুধু নিজের নিঃশ্বাসে ওকে উষ্ণ রাখার চেষ্টা করি।

ভোর হতে হতে ঝর্না নিজে থেকেই আমার কাঁধে মাথা রাখে। আমি চমকে উঠি না, কিছু বলি না।
শুধু হাতটা বাড়িয়ে ওর চুলে আঙুল চালিয়ে দিই।
ও আমার বুকের ওপর হাত রাখে।

নিঃশব্দ সেই মুহূর্তে, ঝর্না ধীরে বলে,
— একদিন যদি জানতে পারো, আমি কেন এমন করছি, তখন হয়তো আমাকে ঘৃণা করবে।
— আমি তোমাকে আগেই ভালোবেসেছি। এখন জানলেও ভালোবাসাই কমবে না।

ঝর্না কোনো উত্তর দেয় না।
তবে ওর স্পর্শে একটা আলাদা মায়া থাকে।
একটা অজানা বাঁধন, যা কোনো শাড়ি বা ওড়নার গিট্টিতে নেই।

চলবে...

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url





sr7themes.eu.org